বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

গৌরবের ৫০ বছর / বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা


বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মাপ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী জাতীয় পতাকা মাপের সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিম্নলিখিত:

‘জাতীয় পতাকা’ গাঢ় সবুজ রঙের হবে এবং ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকবে। লাল বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট হবে। পতাকার দৈর্ঘ্যের নয়-বিংশতিতম অংশ হতে অঙ্কিত উলম্ব রেখা এবং পতাকার প্রস্থের মধ্যবর্তী বিন্দু হতে অঙ্কিত আনুভূমিক রেখার পরস্পর ছেদ বিন্দুতে বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু হবে। অর্থাৎ পতাকার দৈর্ঘ্যের বিশ ভাগের বাম দিকের নয় ভাগের শেষ বিন্দুর ওপর অঙ্কিত লম্ব এবং প্রস্থের দিকে মাঝখান বরাবর অঙ্কিত সরল রেখার ছেদ বিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র। পতাকার সবুজ পটভূমি হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট গ্রীন এইচ-২ আর এস ৫০ পার্টস এবং লাল বৃত্তাকার অংশ হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ন ব্রিলিয়ান্ট অরেঞ্জ এইচ-২ আর এস ৬০ পার্টস।


পতাকা ব্যবহারের মাপ

  • ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ—
  • ১০ বাই ৬ ফুট (৩.০ বাই ১.৮ মিটার) ৫ বাই ৩ ফুট (১.৫২ বাই ০.৯১ মিটার) ২.৫ বাই ১.৫ ফুট (৭৬০ বাই ৪৬০ মিলিমিটার)।
  • ৫ বাই ৩ ফুট (১.৫২ বাই ০.৯১ মিটার)
  • ২.৫ বাই ১.৫ ফুট (৭৬০ বাই ৪৬০ মিলিমিটার)
  • মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ—

ক) ১৫ বাই ৯ ইঞ্চি (৩৮০ বাই ২৩০ মিলিমিটার) (বড় গাড়ির জন্য)

খ) ১০ বাই ৬ ইঞ্চি (২৫০ বাই ১৫০ মিলিমিটার) ( ছোট এবং মাঝারি আকারের গাড়ির জন্য)

  • আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ— ১০ বাই ৬ ইঞ্চি (২৫০ বাই ১৫০ মিলিমিটার)।

ব্যাখ্যা: পতাকার দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ হবে ৬ ফুট, লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে ২ ফুট, পতাকার দৈর্ঘ্যের সাড়ে ৪ ফুট ওপরে প্রস্থের মাঝ বরাবর অঙ্কিত আনুপাতিক রেখার ছেদ বিন্দু হবে লাল বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু।


পতাকার ব্যবহারবিধি

208px-Shangrami_Chetona_-_DU_-_Ashfaq
 
১৯৭১ সালে,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কলা ভবনের সামনের পশ্চিম গেটেই বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়

১৯৭১ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কলা ভবনের সামনের পশ্চিম গেটেই বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন এবং অফিসসমূহ, যেমন-রাষ্ট্রপতির বাসভবন ‘বঙ্গভবন’, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’, জাতীয় সংসদ ভবন প্রভৃতি, সকল মন্ত্রণালয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সচিবালয় ভবনসমূহ, হাইকোর্টের অফিসসমূহ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতসমূহ, বিভাগীয় কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার/কালেক্টর, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের অফিসসমূহ, কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারসমূহ, পুলিশ স্টেশন, শুল্ক পোস্টসমূহ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ভবন। সেইসাথে সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত ভবনসমূহে সকল কর্মদিবসে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলিত হয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের মোটরযান, জলযান এবং উড়োজাহাজে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করতে পারেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, উপমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ রাজধানীর বাইরে, দেশের অভ্যন্তরে অথবা বিদেশে ভ্রমণকালীন সময় তাদের মোটরযান এবং জলযানে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করতে পারেন।


অফিসিয়াল বাসভবন

নিন্মলিখিত ব্যক্তিবর্গের অফিসিয়াল বাসভবনে ‘পতাকা’ উত্তোলন করতে হবে:

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পীকার, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীবর্গ, চীফ হুইপ, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, প্রতিমন্ত্রীবর্গ, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, উপমন্ত্রীবর্গ, উপমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ কূটনৈতিক /কনস্যুলার /মিশনসমূহের প্রধানগণ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যানগণ।


মোটর গাড়ী ও জলযান

নিন্মলিখিত ব্যক্তিবর্গ তাদের মোটর গাড়ী ও জলযানে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করার অধিকারী হন :

জাতীয় সংসদের স্পীকার, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রীবর্গ, চীফ হুইপ, জাতীয় সংসদের, ডেপুটি স্পীকার, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ কূটনৈতিক/কনস্যুলার/ মিশনসমূহের প্রধানগণ


উত্তোলন

নিম্নবর্ণিত দিবস এবং উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র সরকারী ও বেসরকারী ভবনসমূহে এবং বিদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনের অফিস ও কনস্যুলার পোস্টসমূহে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে হয়:

(ক) মহানবীর জন্ম দিবস

(খ) ২৬শে মার্চ 

(গ) ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস

(ঘ) সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোন দিবস


অর্ধনমিত

নিম্নবর্ণিত দিবসসমূহে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত থাকে:

(ক) ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস

(খ) ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস

(গ) সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপিত অন্য যে কোন দিবস

পতাকা অর্ধনমিত হবে খুঁটির ওপর থেকে পতাকার প্রস্থের সমান নিচে।


বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে নির্মিত ওয়েবসাইট এর তথ্য হালনাগাদ চলছে।